Total Pageviews

Saturday, 10 March 2012

ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া

ওহে বসন্ত,আজ যে দোলের খেলা,রঙের মেলা । 
আর কবে সবগুলো গাছ ছেয়ে যাবে রাঙা পলাশে ?
তেপান্তর আজও রক্তে ভেজা,মানুষের লাশে ।
কেন এত চাপ চাপ রক্ত চারিদিকে ?
জানলার শিক ধরে আমি দু'চোখ ভরে রাস্তা দেখেছি
একটা বাচ্চা ছুটছিলো,খেলছিল দিব্যি,দুম করে পড়ে গেলো বেচারা।
কেঁদে উঠলো "মা" বলে ।
সদ্য হাঁটতে শেখা শিশু,মা এসে তাকে কোলে তুলে,সোহাগ ভরে বলেছিল,
"
কাঁদে না আমার গুন্ডাসোনা । ও তোমায় মেলেছে ? ব্যথা দিয়েছে ? আমিও ওকে মেলেদিলাম ।"
আমি হাসতাম দেখতাম
কিভাবে একটা শিশুকে আমরা হাতেখড়ি দিই বদলা নেওয়ার
শিশুর হতচকিত কান্নাও থামে,হিংসার বর্ণপরিচয়ে !
প্রতিশোধের দ্বিতীয় ভাগ শুরু হয় ।
যখন,বাবা আদর করে ছেলের জন্য দামী খেলনা মারণাস্ত্র কিনে আনে ।

এভাবেই বোধ হয়,সে শিখতে থাকে,
কি করে জীবনের মোকাবিলা করতে হয়,জীবনসংগ্রামের মধ্যে দিয়ে

ছেলে এখন খেলার মাঠে রব তোলে, “করবো-লড়বো-জিতবো রে!”
কম্পিউটারে মত্ত থাকে,মাফিয়াদের যুদ্ধে ।
স্কুলে যেয়ে বন্ধু পেটায়,পাশ থেকে কেউ চিল্লায়, “মার ! মার !”
ছেলে এখন বড় হয়ে গেছে,বেঁচে থাকার উপায়গুলো বুঝে নিয়েছে ।
মারের বদলা আরও মার । খুনের বদলা আরও খুন

নিয়ম বলছে, বাঁচতে হলে,মারতে হবে ।
আমি তো ভালোবাসার অপরাধে কবেই মারা পড়েছি,সমাজের হাতে !

গাছতলায় একটা কিছু পড়েছিল,
দূর থেকে ঝরে পরা শুকনো পলাশ মনে হল ।
আমি কুঁড়াতে গেলাম,পোশাকধারী সিপাহী এসে বাধা দিলো,ঘিরে ফেললো ।
বললো,অনির্ধারিত কোন কিছুতে আঙুল ছোঁয়ান এখন নিষিদ্ধ ।
বিস্ফোরক হতে পারে !
শুনে,আমিও বোধ হয়,সেই শুকনো পলাশটার মতো কুঁকড়ে গেছিলাম ।
ঘরে ফিরে আর সাহস জোটেনি জানলার শিকগুলো ধরে দাঁড়াবার

হা ঈশ্বর ! এ কোন সকাল ?
বসন্তের এই মাতাল সমীরণে,ঘরের ভেতর সেঁধনো প্রাণ ।
জানলা বন্ধ করো শিগগির,ভয়ে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে

ফুল ফুটুক,না ফুটুক ক্যালেন্ডার বলছে আজ বসন্ত ।
তবে,রঙে নয় রক্তে রাঙানো অঙ্গন ।
ভ্রাতৃঘাতীও আজ এ মঞ্চে, “যোদ্ধা” আখ্যা পায় ।
শিমুল-পলাশ ফোটেও যদি,
ওহে বসন্ত,আজ তোমায় দিলাম ছুটি ।
ভয় পাই আমি,ভুল করে হাত বাড়াই যদি ।
লাল টুকটুকে যত আছে ফুল,ছুঁলেই যদি,
গলতে গলতে হয় রক্তের নদী !!!

No comments:

Post a Comment