Total Pageviews

Thursday, 1 March 2012

তোমায় পাঠানো ' জঘন্য' একটা খোলা চিঠি আর আমার স্তব্ধতা

আজকের চিঠিতে একটা গল্প শোনাবো তোমায়। যেখানে, "আমি" একটা খুব সাধারণ মেয়ে। যার কোন রূপ নেই। গুণ নেই। হয়তো কিছুই নেই। তবু কারও মন ছুঁয়েছিল হয়তো আমার কাঁচা বয়সের মায়া, বন্ধ ঝিনুকের মত দুটি চোখের ভেতর লুকানো দু'ফোঁটা নিরেট অশ্রুবিন্দু। ভুলে গিয়েছিলাম,নিজের সাধারণত্বের কথা। এমন একটা মেয়ে কি কারও ভালোবাসার যোগ্য হতে পারে? নারীমন বড়ই মায়াময়, নীহারীকা। হায় রে আমার মৃত্যু চেতনা,আমার বেঁচে থাকার ইচ্ছা,আমার ভালোবাসা ! পিছনের অনেক কিছু মনে পড়ে,ভুলতে চাওয়া-কোন গুরু অপরাধ বুঝি। এক একটা ছোট ছোট কষ্ট পাহাড়ের মত চেপে ধরে। ছোট ছোট অবহেলা গুলো আমাকে অসহনীয় যন্ত্রণায় বিষিয়ে দেয়। ঘড়ির কাঁটা টিকটিক শব্দে ঘুরে চলে,মাঝেমাঝে ভাবি,এই বুঝি বন্ধ হয়ে যাবে। তারপর,আবার সূর্য উঠে যায়। আমি কাঁদি। ইচ্ছে করে,সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেই। কিন্তু পারিনা। আমি অস্থির হয়ে উঠি। আমি যে নিজের সাথে ভালোবাসাকে জড়িয়ে ফেলি। সে যেদিকে যায়,আমিও সম্মোহিতের মতো সেদিকেই ছুটি। অথচ,আমাকে অবাক করে দিয়ে সে একদম চুপ করে বসে থাকে। যেন আমি ব'লে কেউ কোনদিন ছিলামই না!

আমি হাজার হাজার প্রশ্ন করি,হয়তো একই প্রশ্ন হাজারবার করি। তুমি আমায় ভালোবাসো তো? আমায় ছেড়ে যাবেনা তো? আমায় ভালো লাগছে? কবে আসবে? আমায় কবে নিয়ে যাবে? কখনও সে এসব শুনে বিব্রত হয়। কখনও নিরুত্তর থাকে। কখনও বলে,জানিনা। কখনও কথা ঘোরায়। আমি সব বুঝেও স্তব্ধ থাকি। তার এই উদাসীনতা আমাকে কষ্ট দেয়। একটি মনুষ্য পরিচয়ের বাইরেও যে আমার দেশ-ধর্মকে জড়িয়ে এত এত পরিচয় হতে পারে,ভাবিনি কোনোদিন। মাঝেমাঝে ভাবি,তবে কি আমায় নিয়ে খেলেছিলে? আমারই গলা জড়িয়ে ধরে,আমারই পিঠে ছোঁরা মেরেদিলে? কে অপরাধী? আমি? তুমি? না বিধি? মাঝেমাঝে মনে হয়,এই মানুষটাকে তো ভালবাসিনি! তবু,ভালোবাসি।
সে বলে,"তোমার পাশেই আছি, তুমি দেখতে পাওনা।" আসলেই আমি অন্ধ। আমি দেখতে পাইনা তোমাকে। দেখার তৃষ্ণা জাগে। বলি, "চল,সব কিছু ছেড়ে অনেক দূরে কোথাও পালিয়ে যাই।" তুমি আসো না। আমি মনকে বুঝাই,আজ না কাল,কাল না পরশু। অভিমানী দুটি বিনিদ্র চোখ তবু,স্বপ্নে বিভোর। প্রত্যেকদিন ভোর আসে,সাজু নতুন আশায় বুক বাঁধে। শ্রেয়সী সেই চিরপরিচিত "প্রেয়সী" ডাকের অপেক্ষায় রোজ রোজ শ্রেয়ানের জন্য দিন গোনে। কবে এ অপেক্ষার অবসান হবে? পরিণতি কি হবে? আজীবন মৃত্যু নাকি আমরণ সুখ?
দেওয়াল জুড়ে তার লেখনী চোখে ভাসে,

"সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে-সব নদী। ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার,মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।"

আমার ভিতরে তোমার সেই বনলতা সেন কি বাস করে? আমার ভিতরের মানুষটা কে? আমি তো তাকে চিনি না। সমস্ত দিনের ব্যস্ততার শেষে আমি শুধু একটু শান্তি চাই। আর আমার সেই তৃপ্ত মুহূর্তে তোমাকে চাই। তুমি আর আমি। আরও গভীরভাবে কাছে পেতে চাই। গাঢ় একটা চুমুতে আমি সুখ খুঁজে যাই। অনাবৃত আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরে আরও নীবিড় হতে চাই। চোখে না দেখা অনুভুতির ভাষাগুলো স্পর্শে পড়তে চাই। দোহাই তোমার,আমার এই অতি সাধারণ মনুষ্যত্বের গভীরে যদি এতটুকু কিছু অসাধারণত্ব খুঁজে পাওয়া নাও যায়,তবু,আমাকে আমার মতো করে একটু ভালবাসতে পারো তুমি?
হায় রে,বিধাতার লিখন ! ভালোবেসে যাকে ছুঁই,সে যায় দূর পরবাসে। যে ব্যথা দেয়,সে বোঝে না ব্যথার কি রূপ, আর যে ব্যথা পায়,সে জানেনা এ ব্যথা কি করে অস্বীকার করতে হয় ! কি অদ্ভুত এক গভীর সম্পর্ক লুকিয়ে থাকে ভালোবাসা আর ব্যথা পাওয়ার মধ্যে ! হায় রে সামান্য মেয়ে ! হায় রে বিধাতার শক্তির অপব্যয় ! বিছানায় শুয়ে শুয়ে প্রতি রাতের অন্ধকারে আমার কৃপণতম ঈশ্বরের কাছে যে অসম্ভব বর চেয়ে যাই,জানি,সে বর আমি পাবো না। তবু প্রার্থনা,সে বর যেন পায় তোমার মনমোহিনী নায়িকা। তার রূপের চটকে,গুণের ছটাকে আমার এই 'দুঃখবিলাসী' স্তব্ধতাকে না হয় ভুলেই থেকো। তবু,তুমি ভালো থেকো।

1 comment:

  1. যাকে এ চিঠি পাঠালাম,সে হয়তো পড়বে। হয়তো বলবে,জঘন্য লেগেছে তার!!! আমি স্তব্ধ হয়ে রয়ে যাবো আরও একবার।

    ReplyDelete